ঢাকা - নভেম্বর ২৯, ২০২১ : ১৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮

পরীক্ষা দিল পৌণে এক ঘণ্টা আগে মা হওয়া দোলা

নিউজ ডেস্ক
নভেম্বর ২৪, ২০২১ ০৯:৫৫
৭২ বার পঠিত

রোববার তার শেষ দিনের পরীক্ষায় অংশ নিতে ঝুঁকি নিয়েই পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছিল সন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসা অন্তঃসত্ত্বা দোলা আক্তার। পথেই প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে তড়িঘরি করে নেয়া হয় হাসপাতালে। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই প্রকৃতিগতভাবে ভূমিষ্ঠ হয় ছেলে সন্তান। এরপর নবজাতককে হাসপাতালে রেখেই কেন্দ্রের দিকে ছুটেন এসএসসি পরীক্ষার্থী এ প্রসূতি। বরিশালের বানারীপাড়ার এ ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এলাকায়। বাল্যবিয়ের শিকার দোলার পড়ালেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখে তাজ্জব হয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, তার শিক্ষক, অভিভাবকসহ স্থানীয়রা, প্রশংসা করছেন তার।

উপজেলার চাখার ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সকাল সোয়া ৯টার দিকে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় তার। আর সকাল ১০টায় চাখার ফজলুল হক ইনস্টিটিউশন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে পরীক্ষা অংশ নেন।

দোলা আক্তার উপজেলার খলিশাকোঠা গ্রামের দুলাল সরদারের মেয়ে। তিন বছর আগে তার বিয়ে হয় পাশ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলার দাসের হাট (হরিদ্রাপুর) গ্রামের ইউসুফ আলী খানের ছেলে আকাশ খানের (দুলাল) সঙ্গে। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে সে। চাখার ওয়াজেদ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আকাশ খান ঢাকায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করছেন।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নাসিমা বেগম বলেন, নবজাতক সুস্থ আছে। প্রসবের কারণে দোলা শারীরিকভাবে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। এরপরও সে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য আকুতি জানায়। শারীরিক এমন অবস্থায় তার স্বজনরা পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। এক পর্যায়ে সে পরীক্ষা দেয়ার জন্য কান্নাকাটি শুরু করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরীক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকদের জানায়।

কেন্দ্র সচিব জিয়াউল হাসান জানান, দোলা সঠিক সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছে আমাদের। চাখার ওয়াজেদ মেমোরিয়াল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আজিম বলেন, দোলা মেধাবী ছাত্রী। তার লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে আমি অভিভূত। দোলার বাবা দুলাল সরদার বলেন, শিশুকাল থেকেই পড়াশোনার প্রতি দোলার খুব ঝোঁক। সে প্রাইভেট বা কোচিং না করেও ক্লাসে মেধা তালিকায় থাকতো। তবে সংসারে অসচ্ছলতার কারণে ও ভালো পাত্র পাওয়ায় নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় দোলার বিয়ে দেয়া হয়। বাল্যবিয়ের বিষয়ে দোলার বাবা ও শ্বশুর জানান, তাদের দুই পরিবারের সম্মতিতে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

এমকে



মন্তব্য