ঢাকা - অক্টোবর ২৭, ২০২১ : ১২ কার্তিক, ১৪২৮

সার্বজনীন ও সাশ্রয়ী টিকার দাবি প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ ০৯:৪৪
৪৭ বার পঠিত

লক্ষ লক্ষ মানুষকে করোনা টিকা থেকে দূরে রেখে কখনই টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তাই করোনামুক্ত বিশ্ব গড়তে সার্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকা প্রাপ্যতায় যথাযথ বৈশ্বিক পদক্ষেপের দাবি তাঁর। বলেছেন, টিকা প্রযুক্তি হস্তান্তর টিকার সমতা নিশ্চিত করার একটি উপায় হতে পারে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে প্রদত্ত তাঁর ভাষণে করোনা মোকাবিলা ও রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে দেয়া নিজের ছয় দফা প্রস্তাবনার মধ্যে এসব বিষয় ওঠে এসেছে। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত পৌনে বারোটায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এ ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বে এ যাবৎ উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ পেয়েছে উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলো, আর ১ শতাংশেরও কম টিকা পৌঁছেছে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে। বর্তমান এ ‘টিকা-বিভাজন’প্রবণতা করোনা মহামারিকে দীর্ঘস্থায়ী করবে। তাই সবাইকে পুরোপুরি নিরাপদ থাকতে জরুরিভিত্তিতে এ টিকা বৈষম্য দূর করতে হবে। প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্ত্বে ছাড় পেলে বাংলাদেশও বিপুল পরিমাণে টিকা তৈরি করতে সক্ষম বলে তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলো হচ্ছে- প্রথমত, কোভিডমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে টিকার সার্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, করোনা মোকাবিলায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে অধিকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। এজন্য ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নিঃসরণের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তর করতে হবে। তৃতীয়ত, করোনার প্রকোপে শিক্ষাব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত। এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠতে ডিজিটাল সরঞ্জামাদি ও সেবা, ইন্টারনেটের সুযোগ-সুবিধার সহজলভ্যতা ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এ জন্য জাতিসংঘকে অংশীদারিত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, করোনার প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করতে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রণোদনাভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরো সহায়তা প্রয়োজন। পঞ্চমত, করোনাকালে রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীদের অনেকে চাকরিচ্যুতি, বেতন কর্তন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সহজলভ্যতার অভাব ও বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এ সংকটকালে অভিবাসীগ্রহণকারী দেশগুলোকে অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ এবং তাঁদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণকে নিশ্চিত করতে হবে। ষষ্ঠ, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা দরকার। নিজেদের নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অবশ্যই অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে মিয়ানমারকে ।

আধা ঘণ্টাব্যাপী দেয়া ভাষণে বাংলাদেশে করোনার প্রকোপ, করোনা প্রতিরোধে ও করোনাকালে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নেয়া সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ওঠে আসে ফিলিস্তিন এবং আফগান সমস্যাও।

এমকে



মন্তব্য