ঢাকা - সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ : ১০ আশ্বিন, ১৪২৮

দাফনের ৩ দিন পর শ্মশানে সৎকার!

নিউজ ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১ ২১:২৩
৬৮ বার পঠিত

শেরপুর প্রতিনিধি:

বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের ৩ দিন পর কবর থেকে উত্তোলন করে শ্মশানে সৎকার করা হয়েছে শান্ত চক্রবর্তী (৪৫) লাশ। শনিবার দুপুরে শেরপুরের স্থানীয় শেরী শ্মশানে তার সৎকার করা হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর রেললাইন থেকে রেলওয়ে পুলিশের উদ্ধার করা শান্ত চকবর্তীর লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করেছিল আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম। তার আগে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। যদিও লাশটি উদ্ধারের পরপরই ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেছিলেন তার পরিবার। কিন্তু রেলওয়ে পুলিশ বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুলের কাছে হস্তান্তর করায় বাধে এ বিপত্তি।

এদিকে শান্ত চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার পরিবার। আর যাচাই-বাছাই ছাড়াই হিন্দু ব্যক্তিকে তাড়াহুড়ো করে কবরস্থানে দাফন করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।

শান্ত চক্রবর্তী শেরপুর শহরের গৃর্দানারায়ণপুর মহল্লার মৃত সমর চক্রবর্তীর ছেলে ও এক সন্তানের জনক। তার ছেলে স্বরূপ চক্রবর্তীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জামালপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশটি উত্তোলন এবং সৎকারের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার আদেশ দেন। শনিবার সকালে জামালপুর পৌর কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের উপস্থিতিতে লাশটি উদ্ধারের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শান্ত চক্রবর্তীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শান্ত বাসা থেকে বের হন, রাতে আর বাসায় ফেরেননি। পরে তার স্ত্রী তাদের আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় তার খোঁজ করেন। কিন্তু হদিস না পাওয়ায় শেরপুর সদর থানায় একটি জিডি করেন তিনি।

এদিকে সেদিনেই জামালপুরে রেললাইনের পাশে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের খবর পায় তার স্বজনরা। লাশটি শনাক্ত করার পর মৃত শান্ত চক্রবর্তীকে বাড়িতে আনার উদ্যোগ নেন তারা। কিন্তু ততক্ষণে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে লাশটি স্থানীয় পৌর কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করে রেলওয়ে পুলিশ। এরপরেই স্বরূপ চক্রবর্তী আদালতে আবেদন করেন।

অন্যদিকে স্বরূপ চক্রবর্তী বলেন, রেললাইনের পাশে তার বাবার মৃত্যুটি রহস্যজনক। ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কায় তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন- জিআরপি পুলিশ এমন দাবি করলেও স্থানীয়রা কেউই এ ঘটনা শুনেননি। তার ধারণা, পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাতের পর প্রাণ হারিয়েছে ভেবে তাকে রেললাইনের পাশে ফেলে যাওয়া হয়।

জামালপুর রেলওয়ে পুলিশের এসআই সোহেল রানা বলেন, বুধবার ভোর ৪টায় রেললাইনের পাশে থেকে মাথায় রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সকাল ৭টার দিকে তিনি মারা যায়। পরিচয় না পাওয়ায় প্রয়োজনীয় কার্যাদি সেরে মুসলিম ভেবে দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

তারিকুল ইসলাম/এমকে



মন্তব্য