ঢাকা - জানুয়ারি ২১, ২০২১ : ৭ মাঘ, ১৪২৭

সংগ্রহ-বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে

নিউজ ডেস্ক
জানুয়ারি ১৩, ২০২১ ১২:৫৪
৫৪ বার পঠিত

করোনার টিকা সংগ্রহ এবং বিতরণের পুরো কার্যক্রমে বিতর্ক ও বিভ্রান্তি দূর করতে সব পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহবান জানায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

টিআইবি জানায়, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে করোনার টিকা দ্রুত সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকার সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক চুক্তি এবং এই উৎস থেকে টিকার সময়মতো প্রাপ্তির সম্ভাবনা বিতর্ক এড়াতে পারেনি। বরং বেশকিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।টিকার প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যেভাবে বাণিজ্যিক চুক্তিটিকে দুই দেশের জি-টু-জি বলার চেষ্টা চালিয়েছে তা অনভিপ্রেত। অপরদিকে ভারতে টিকার অনুমোদনের পরদিনই যেভাবে দ্রুত গতিতে কাভিশিল্ডের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসনের বিদ্যমান আইন কতোটা মানা হয়েছে এবং কোন কোন নথির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে সরাসরি কেনা টিকার জন্য বেক্সিমকোকে তাদের খরচ ও কমিশন বাবদ যে মূল্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে তা কোন নীতি বা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেওয়া হয়েছে বা এর পেছনের যুক্তি বা বিবেচনা কী ছিল তাও পরিষ্কার করতে পারেনি। এটি যেকোনও পর্যায়ের সরকারি কেনাকাটার স্বচ্ছতার পরিপন্থী। অতিমারি যেনো কোনোভাবেই কারও জন্য অন্যায় সুবিধার মাধ্যমে পকেটপূর্তির উৎসবে পরিণত না হয়।

টিআইবি জানায়, পর্যাপ্ত প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিনামূল্যে জনসংখ্যার ৮০ ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। অথচ টিকার প্রয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আরেক দফায় বিভ্রান্তি তৈরির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। করোনোর টিকা প্রথম ডোজ প্রয়োগের একমাস পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কথা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। কিন্তু এখন বলছে— দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ করা হবে আট সপ্তাহের ব্যবধানে। এক্ষেত্রে বড় বিষয় হচ্ছে— এই সিদ্ধান্ত কেন কীভাবে পরিবর্তন করা হলো? এর পেছনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী বা বিষেশজ্ঞ কমিটির পরামর্শ নেওয়া হয়েছে কি-না পরিষ্কার করা হয়নি। একইভাবে টিকা প্রাপ্তির অগ্রাধিকার নির্ণয় প্রক্রিয়া কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে সম্পর্কেও জনমনে পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয়নি। এই ধরনের বড় আকারের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে- কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে ও বিভ্রান্তি দূরীভূত করে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করা যায়, তার ওপর। এই টিকাদান কর্মসূচি সফল না হলে একদিকে যেমন অতিমারির হাত থেকে দ্রুত স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফেরা এবং অর্থনৈতিক পুনঃরুদ্ধার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে, তেমনই বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেওয়া চার হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয়ের উদ্দেশ্যই ভেস্তে যাবে।

এমআই



মন্তব্য