ঢাকা - নভেম্বর ২৫, ২০২০ : ১০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭

তথ্যপ্রবাহে বাধা দিলেই গুজব সৃষ্টি হয়

নিউজ ডেস্ক
নভেম্বর ২২, ২০২০ ১১:০০
৩২ বার পঠিত

তথ্য চেপে রাখতে চাইলে, প্রকাশে বাধা দিলে ভুয়া খবর ডালপালা মেলে। ফলে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, গুজব সৃষ্টি হয়, আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে করণীয় অবাধ তথ্যপ্রবাহে সরকারের কোনও বাধা না দেওয়া। সাংবাদিক, লেখক মুক্তমনে নির্দ্বিধায় লিখতে পারলে, ভয়ের পরিবেশ না থাকলেই ভুয়া খবর পেছনে চলে যাবে। ‘ভুল তথ্য ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এমনটাই বলেছেন দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান। শুক্রবার (২০ নভেম্বর) রাতে এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে পেন বাংলাদেশ।

সোহরাব হাসান আরও বলেন, ফেক নিউজ নিউজ নয়। সুতরাং সঠিক তথ্য দেওয়াই হচ্ছে ফেক নিউজকে পরাস্ত করার উপায়। বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেলের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে অংশ নেন– একাত্তর টেলিভিশনের হেড অব নিউজ শাকিল আহমেদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি নজরুল কবীর এবং দৈনিক জনকণ্ঠের সাহিত্য সম্পাদক মিলু শামস। স্বাগত বক্তব্য দেন পেন বাংলাদেশের মহাসচিব মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। পেন বাংলাদেশের ফেসবুক পেজে এ সেমিনার সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

নজরুল কবীর বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতার জায়গায় নেই। ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনের এডিটর, ডিসিশন মেকার ও প্রশ্ন করার অধিকারও একমাত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির। ফলে যখন তিনটি দায়িত্ব পালন করছে, তখন সেরকম সচেতন মানসিকতা সম্পন্ন ও যুক্তিসম্পন্ন মানুষ নাহলে সমাজে এখন যে ধরনের প্রোপাগান্ডা হচ্ছে, সেটি হবে। তখনই সমাজে গুজব এবং ফেক নিউজ বৈধতা পায়, বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে, যখন ফেক নিউজকে অথবা এ ভুল তথ্যকে সহায়তা করার মতো আচরণ সরকার বা রাষ্ট্র করে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কতকগুলো জায়গা আছে যেখানে জবাবদিহি করতে পারে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। একাত্তর টেলিভিশনের হেড অব নিউজ শাকিল আহমেদ বলেন, ফেসবুকের যে অবকাঠামো তার মধ্যে কিন্তু ফেক নিউজ দেওয়ার একটি পুরো বন্দোবস্ত করা আছে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের বক্তব্য শোনার চেষ্টা করা হয়, সেগুলো এক জায়গায় এনে উপস্থাপন করা হয়। কোনটি সত্য, কোনটি মিথ্যা- সেটি প্রমাণ করার এখতিয়ার সাংবাদিকের নেই। সাংবাদিক সবার বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। জনগণ বুঝে নেবে- কোনটি সত্য, কোনটা মিথ্যা। কোনটি ভুল, কোনটি সঠিক। কোনটি গুজব, কোনটি গুজব নয়। কিন্তু ফেসবুকে কেবল নিজের মত প্রকাশ করা হচ্ছে।

জনকণ্ঠের সাহিত্য সম্পাদক মিলু শামস বলেন, নব্বইয়ের দশকের শেষে অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন যখন হলো, মিডিয়ার বিশ্বায়নও তখন হয়ে গেছে। মিডিয়া তখন পুরোটা বেসরকারি খাতে চলে গেছে। তিনি বলেন, ফেসবুককে আমি বলবো বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্যই করা হয়েছে। তথ্য নিয়ন্ত্রণ করছে করপোরেট পুঁজি, বড় বড় সংস্থার হাতে মিডিয়া। তথ্য তো এখন রাষ্ট্রের হাতে নেই আসলে, তথ্য এখন বাণিজ্য সংস্থার হাতে। তথ্য বেচাকেনার বড় একটা মুনাফা হচ্ছে এখানে। ফেসবুক যদি মুনাফা না করতে পারে, তাহলে কি তারা এমনি বিনামূল্যে দিচ্ছে? এখানে এসব গুজব ছড়াবে, ফেইক নিউজ আসবে। এগুলো আসার জন্যই এটা করা হয়েছে। এখানে রাষ্ট্রের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই।

এমআই



মন্তব্য